All about SEO

আসসালামু আলাইকুম, খলিফা নেটওয়ার্কে আপনাকে স্বাগতম!
কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন।

 

আজ আমরা আলাপ করবো SEO বা Search Engine Optimization -এর বিস্তারিত নিয়ে।

আমাদের আগের একটি পোষ্টে আমরা এসইও সম্পর্কে কিছুটা জেনেছি, আর আজ জানবো এসইও এর বিস্তারিত। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার জগতে এসইও সবচাইতে অধিক জনপ্রিয়। মার্কেটপ্লেসে এ কাজে দক্ষদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে শুধু তাই নয়, এসইও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মার্কেটপ্লেস ছাড়াও ব্লগিং / অ্যাডসেন্স / অ্যাফিলিয়েশন / ইকমার্স সহ বিভিন্ন কাজ করেও ইনকাম করা যায়। আজ আমরা এর বিস্তারিত জানবোঃ

 

১. এসইও কি?

SEO এর পুরো অর্থ হচ্ছে Search Engine Optimization। আপনি খেয়াল করে দেখুন বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষই তার প্রয়োজনীয় তথ্য খুজে পেতে গুগলে সার্চ করে থাকে। তখন গুগল তার সার্চ রেজাল্টে অনেকগুলো সাইটের ফলাফল দেখায়। কোনটি রয়েছে একেবারে প্রথমে (টপে) আবার কোন ওয়েবসাইটের লিংক হয়ত প্রদর্শন করে ২য় পেজে বা সবার শেষ পেজে। যেই সাইটটির তথ্য প্রথমে দেখাচ্ছে কারন হলো সেই সাইটটির এসইও খুব ভালোভাবে করা হয়েছে, তাই সেই সাইটটি সবার উপরে ও প্রথমে রয়েছে। তাই বলা যায়, কোন ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে প্রদর্শন করার জন্য যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়ে থাকে সেটিই হচ্ছে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। যখন কোন ওয়েবসাইট সার্চের প্রথমে থাকে তখন সেই ওয়েবসাইটটি ভিজিটর বেশি পেয়ে থাকে। আর ভিজিটর বেশি হলে ইনকামও বেশি হয়। ধরুন, আপনি চাচ্ছেন এসইও কোর্স সম্পর্কে জানবেন, সেজন্য গুগলে সার্চ করবেন, তখন যদি আমাদের ওয়েবসাইটটি আপনার সার্চে চলে আসে তাহলে আপনি আমাদের সাইটে ভিজিট করবেন এবং আমরা আমাদের সাইটে ভিজিটর পাবো সাথে আমাদের কিছু আয় ও হবে। শুধুমাত্র সঠিক এসইও করার মধ্যেই সাইটের ভিজিটর বাড়ানো যায় এবং আপনার ব্যবসার প্রসার করা যায়।

২. সার্চ ইঞ্জিন কী?

আমরা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় যেকোন বিষয়ে তথ্য পেতে বা জানতে হলে ইন্টারনেটে / গুগলে / অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দিয়ে থাকি, তখন আমাদের সার্চ করা তথ্যগুলো সারা বিশ্বের যত ওয়েবসাইটে রয়েছে সেগুলো আমাদের সামনে চলে আসে। এ বিষয়গুলো জানার মাধ্যমকেই সার্চ ইঞ্জিন (সার্চ engine) বলা হয়।
বিশ্ববিখ্যাত কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছেঃ গুগল (google), ইয়াহু (yahoo), বিং (bing), আস্ক (ask) ইত্যাদি।
সার্চ ইঞ্জিনগুলো তৈরি হয়েছে মানুষের খোঁজা তথ্যগুলো সহজেই খুঁজে পাওয়ার জন্য। মানুষ কোন কিছু সার্চ দিলে যেন সবচাইতে সেরা তথ্য খুজে পায় সেজন্য সার্চইঞ্জিনগুলো কিছু বিশেষ পোগ্রাম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ইন্টারনেটের সকল সাইটের মধ্যে কিছু কিছু বিষয় তুলনা করে সেরা সাইটগুলোকে সার্চের প্রথমে নিয়ে আসতে পারে। সেরা সাইট নির্বাচন করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলি তাদের তৈরী রোবোটস ব্যাবহার করে, এবং সেই রোবোটস দেখে ওয়েবসাইটটি মানসম্মত কিনা, ওয়েবসাইটের তথ্য প্রয়োজনীয় কিনা, ওয়েবসাইটটি কেমন জনপ্রিয়, ইত্যাদি ইত্যাদি।

৩. কাদের জন্য এসইও?

– আপনি যদি আপনার কোন প্রোডাক্ট অনলাইনে প্রচার করতে চান?
— তাহলে আপনার জানা থাকতে হবে, অনলাইন মার্কেটিং।
– আপনি যদি অনলাইনে বিজনেস করতে চান?
— তাহলে ব্যবসায় অধিক মুনাফার জন্য জানা থাকতে হবে, অনলাইন মার্কেটিং।
– অনলাইনে গ্রাফিকস কিংবা ওয়েবডিজাইন সম্পর্কিত কাজ খুজছেন?
— তাহলে আপনার জানা থাকতে হবে, অনলাইন মার্কেটিং।
– মার্কেটপ্লেসগুলোতে খুব সহজে ক্যারিয়ার গড়তে চান?
— তাহলে আপনার জানা থাকতে হবে, এসইও।
– সারাজীবনের জন্য নিশ্চিত আয় চান?
— তাহলে আপনাকে জানতে হবে, এসইও এর সবকিছু।
– কম্পিউটার জ্ঞান স্বল্প হওয়া স্বত্ত্বেও অনলাইন হতে কিছু আয় করতে আগ্রহী?
— তাহলে এখনই শিখে ফেলুন এসইও কোর্সটি।

৪. এসইও শিখে আয় করতে পারবেন কি কি উপায়ে?

১। লিংক বিল্ডিং করে আয়ঃ
বিভিন্ন ব্লগ কমেন্টিং, ফোরামে পোস্টিং ইত্যাদির মাধ্যমে লিংক বিল্ডিং এর কাজ করে অনলাইন থেকে মাসে গড়ে ২০০-৩০০ ডলার আয় করতে পারবেন।

২। আর্টিকেল লিখে আয়ঃ
আর্টিকেল রাইটারদের চাহিদা মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র আর্টিকেল লিখেই যেকেউ মাসে গড়ে ১০০-১০০০+ ডলার আয় করতে পারে।

৩। ব্লগিং করে আয়ঃ
ব্লগিং করে দুইভাবে আয় করা যায়, একটি হচ্ছে আপনি অন্যদের ব্লগে গেস্ট ব্লগার হিসেবে লিখে আয় করতে পারেন অথবা নিজের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে সেখানে নিয়মিত ভাবে ব্লগিং করে সেটিকে ভালো পজিশনে নিয়ে যেতে পারলে সেখান থেকেও আয় করা যায়। এ পদ্ধতিতে আপনি মাসে আয় করতে পারবেন গড়ে ৫০- আইলিমিটেড ডলার।

৪। অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয়ঃ
নিজের একটি ব্লগ সাইট কিংবা অন্য যেকোন সাইট তৈরি করে সেখানে মোটামুটি ভালো ভিজিটর আনতে পারলে, সেখান থেকে অ্যাডসেন্স বা অন্য যেকোন পাবলিশার সাইট থেকে আয় করা যায়।

৫। অ্যাফিলিয়েশনের মাধ্যমে আয়ঃ
আপনি একটি ওয়েবসাইট খুলে আমাজন / হবে এর মত যেকোন প্রতিষ্ঠান হতে অনুমতি নিয়ে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন, আপনার ওয়েবসাইটের এসইও করার মাধ্যমেই পণ্যটির বিক্রি বাড়াতে পারবেন। এবং এভাবে পণ্য বিক্রিকে আমরা অ্যাফিলিয়েশন বা এফিলিয়েট মার্কেটিং বলি। এই অ্যাফিলিয়েশন করে মাসে আয় করা যায় গড়ে ৫০০ – আনলিমিটেড ডলার।

৬। অনলাইন মার্কেটার হিসেবে আয়ঃ
অনলাইনে পণ্যের প্রচারের কাজ যারা যত ইফেক্টিভ ভাবে করতে পারে তাদের চাহিদাও থাকে প্রচুর পরিমানে।সাধারণত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া বা ইউটিউবের মাধ্যমে মার্কেটিং করার কাজ পাওয়া যায়। আর এ ধরনের কাজ জানা থাকলে অনলাইন থেকে মাসে গড়ে ৩০০-১০০০ ডলার আয় করা যায়। এবং যাদের এই যোগ্যতা রয়েছে তাদের জন্য লোকাল মার্কেটেও প্রচুর চাকুরী অপেক্ষা করছে।

৭। ইমেইল মার্কেটিং করে আয়ঃ
এটিও একটি অনলাইন মার্কেটিংয়ের কাজ। তবে আলাদাভাবে শুধুই ইমেইল মার্কেটিংয়ের উপর বিশাল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। এবং একজন ইমেইল মার্কেটারের মাসিক আয় ২০০-৫০০ ডলার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিনে দিন এটির চাহিদা আরো বাড়ছে।

৮। ওয়েব রিসার্চের মাধ্যমে আয়ঃ
শুধুমাত্র ওয়েব রিসার্চের কাজ করেও অনেকে ভাল টাকা আয় করছে। ইমেইল মার্কেটিংয়ের কাজের জন্য প্রথমে এই কাজে ভালো দক্ষতা থাকা দরকার। এই কাজটি ছোট কাজ তাই আয়ও মোটামুটি কম হয়। এই কাজের মাধ্যমে মাসে গড়ে ৫০-২০০ ডলার আয় করা সম্ভব।

৯। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করে আয়ঃ
একজন এসইও এক্সপার্ট কম্পিটিটর অ্যানালাইসের কাজটি কিন্তু খুব ভালভাবেই জানে। সেই সাথে কীওয়ার্ড রিসার্চটিও ভালভাবে জানতে হয় তাদের। আর যেহেতু এই দুটি কাজ তাদের জানা থাকে, সুতরাং সে খুব সহজেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার প্রচারে মার্কেটিংয়ের বিষয় পরামর্শ দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত। আর অনলাইনে এ সম্পর্কিত কাজ রয়েছে প্রচুর। এ কাজ করে মাসে আয় করা যায় গড়ে ১০০- ২০০০ ডলার।

১০। এসইও এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করে আয়ঃ
এতক্ষণ উপরে যা যা আলোচনা করা হয়েছে তার সবগুলোতেই খুব ভালভাবে দক্ষ হয়ে থাকলে এবং সেই সাথে সার্চ ইঞ্জিনের রেঙ্কিং ফ্যাক্টরগুলো ভালভাবে জানা থাকলে আপনি এসইও এক্সপার্ট হিসেবে আয় করতে পারেন প্রচুর পরিমাণে। একজন এসইও এক্সপার্টের আয় মাসে গড়ে ৫০০– ৫০,০০০+ ডলার।
এসইও পুরোপুরি ভাবে জানা থাকলে, আপনার জন্য উপরের উল্লেখিত ১০টি কর্মক্ষেত্র কিন্তু রেডি হয়ে যায়।
এখানে আমরা শুধুমাত্র প্রধান ১০টি কর্মক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেছি। কিন্তু আরো অনেকগুলো ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারবেন যদি আপনি এসইও ভালোভাবে জানেন।

আপনি যখন এসইও শিখবেন, কি কি শিখবেন?

এসইও শিখার ভিত্তি মূলত ৩ ভাগে ভাগ করা হয়ঃ
আমরা পুরো বিষয়টাকে ক্লিয়ার করে বুঝানোর সুবিধার্থে লোকাল একটি ব্যবসায়ের সাথে তুলনা করে ব্যাখ্যা করবো, তাহলে বুঝতে সবার সুবিধা হবে।

১) এসইও এর প্রথম / মূল ধাপ হচ্ছে কীওয়ার্ড রিসার্চঃ

আপনি আপনার ব্যবসার সুবিধার জন্য কোন কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন, সেটি আপনার ইচ্ছে কিন্তু কীওয়ার্ড সঠিকভাবে বাছাই করতে না পারলে পুরো ব্যবসাটাই লসে পরিণত হবে।
যেমন ধরুন: আপনি ফ্যাশন সম্পর্কিত একটি ব্যবসা করবেন। কিন্তু কোন জায়গায় দোকান দিলে ভাল হবে, দোকানে কোন ধরনের ড্রেস উঠালে সেই জায়গাতে ভাল পরিমান বিক্রি করা যাবে, বর্তমানে কোন শব্দের ব্যবহার করলে ক্রেতাদের নিকট বেশি আগ্রহ জন্মাবে, সেই বিষয়গুলো সঠিকভাবে রিসার্চ করে খুজে বের করতে হয়। যেমন, পাখি ড্রেস! এই পাখি শব্দটার জন্য ড্রেসটার বিক্রি কি পরিমাণ হয়েছিল আমরা সবাই তা জানি। এই ড্রেসের নাম পাখি ড্রেস দিলে মানুষজন বেশি খাবে, সেটি খুঁজে বের করাকেই এসইও -এর ভাষাতে কীওয়ার্ড রিসার্চ বলে থাকে।

২) এসইও এর ২য় ধাপ হচ্ছে অনপেজ এসইওঃ

প্রথম ধাপে কীওয়ার্ড বাছাই করার পর সঠিক এবং উপযুক্ত কীওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে একটি ওয়েবসাইটের পুরো গঠন ঠিক করে তৈরী করা হয়। গঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে: কনটেন্ট ও হাইলাইট জায়গাগুলোতে কীওয়ার্ড ব্যবহার করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
যেমন ধরুন: ১ম ধাপে আপনি আপনার ফ্যাশন সম্পর্কিত ব্যবসার আইডিয়ার পরিকল্পনা করলেন। এবার দ্বিতীয় ধাপে ১ম ধাপের উপর ভিত্তি করে আপনার দোকানটাকে সাজানো শুরু করবেন। ১ম ধাপের গবেষনার উপর ভিত্তি করে সঠিক নাম ঠিক করা, দোকানের ডেকোরেশন করা ইত্যাদি। যদি ১ম ধাপের গবেষণাতে বের হয়, মেয়েদের ওয়েস্টার্ণ ড্রেস বেশি বিক্রি হবে, তাহলে ডেকোরেশনে ওয়েষ্টার্ণ টাইপের লুক নিয়ে আসতে হবে, তাহলেই গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে এবং ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়বে। প্রয়োজন অনুযায়ী দোকান সাজানোটা তখন অনেক জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।
উপরের দুটি ধাপ হচ্ছে এককালীন কাজ। যা একবার হয়ে গেলে আর করতে হবে না।
কিন্তু শেষ ধাপ, যতদিন আপনার ব্যবসা থাকবে ততদিন আপনাকে এই ধাপ চালিয়ে যেতে হবে।

৩) শেষ ধাপ হচ্ছে অফপেজ এসইও বা অফলাইন মার্কেটিংঃ

আপনার কাঙ্খিত কীওয়ার্ড রিসার্চ এর কাজ শেষ, সেই অনুযায়ি আপনার ওয়েবসাইটকেও সাজানো শেষ করেছেন। তাতেই কিন্তু এসইও-এর কাজ শেষ হয়নি। মূলত এবার আপনার আসল কাজ শুরু। এবং আপনাকে সারাজীবন এ কাজটি করে যেতেই হবে। যে কাজের সফলতার উপরই আপনার সব সফলতা নির্ভর করবে তাই হচ্ছে অফপেজ এসইও। যেসব জায়গাগুলোতে মানুষের অবস্থান বেশি থাকে, সেসব জায়গাতে গিয়ে সেই পরিবেশের সাথে মানানসইভাবে আপনার বক্তব্য উপস্থাপনকেই অফপেইজ এসইও বলা হয়ে থাকে।
যেমন: সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগিং করা, ফোরাম পোস্টিং করা, ভিডিও মার্কেটিং করা, এবং ব্লগ কমেন্টিংয়ের মাধ্যমে আপনাকে আপনার বক্তব্যকে মানুষের সামনে আকর্ষনীয় উপস্থাপন করতে হবে।
উদাহরণ: খুব সুন্দর ভাবে আপনি আপনার দোকান গুছানো শেষ করলেন। অনেক দামি ডেকারেশনও করলেন। এবার এভাবে ফেলে রাখলেই আপনার কাস্টমার আসবেনা। হয়তো আপনি কিছু সংখ্যক কাস্টমার পেতে পারেন, কিন্তু তারা আপনার স্থায়ী কাস্টমার হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাবে। কিন্তু আপনাকে ভালো কিছু পেতে হলে, আপনার ব্যবসায়ের জন্য লিফলেট / পোস্টার / পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন / টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়ার মতো ইত্যাদি কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন যে যত আকর্ষনীয়ভাবে যত বেশি বিজ্ঞাপন চালাতে পারে, তার বিক্রি কিন্তু তত বেশি হয়, আর এই প্রক্রিয়াকেই অফপেজ এসইও বা অফলাইন মার্কেটিং বলা হয়।

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে অফপেইজটা আসলে কি?

লক্ষ্য করুন, এখানে অফপেইজ এসইও বলতে মার্কেটিং -কে বুঝানো হয়েছে। মার্কেটিং বলতে বুঝায় মানুষের কাছে আপনার পণ্যকে বা সেবাকে পৌঁছে দেয়া। মনে রাখবেন মার্কেটিং মানে গুগলকে ফাঁকি দিয়ে কোন জায়গাতে নিজের পণ্যের লিংক দিয়ে আসাকেই বুঝায় না। কিন্তু গুগল দেখানো কিছু ইনস্ট্রাকশন অনুসরণ করেই আপনাকে মার্কেটিং করতে হবে। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে গুগল মানুষের মনের উপর / মানুষের চাহিদাকে গবেষণা করে কিছু গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। মানুষ কোন ধরনের বিষয়গুলো বেশি পছন্দ করে / কোন ধরনের বিষয়গুলো অপছন্দ করে, সেই বিষয়গুলোর উপরে একটা গাইড তৈরি করেছে, যা গুগলের অ্যালগরিদম হিসেবে পরিচিত। গুগল যেহেতু মানুষের চাহিদা / পছন্দ / বিরক্তকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদেরও গুগলকে গুরুত্ব দিয়ে এসইও করতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া / ফোরাম / কিংবা ব্লগ যাই হোক, সবজায়গাতে এমনভাবে পোস্ট করতে হবে, যেন মানুষ আপনার লিংকে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে আসে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। খেয়াল রাখবেন আপনি ভুয়া লিংক দিলেন সেই লিংকে ক্লিক করিয়ে সবাইকে আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসলেই ওয়েবসাইট টপে চলে যাবেনা। ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে এসে যদি বেশি সময় ধরে অবস্থান করে থাকে (বাউন্সরেট কমাতে হবে), এক পেজ থেকে আরেক পেজে ভিসিট করে (ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার), এবং পরবর্তীতে সেই ভিজিটর যদি আবারও আপনার ওয়েবসাইটে ঘুরেফিরে আসে (রিটার্ণিং ভিজিটর), তাহলেই গুগল আপনার সাইটকে সার্চের টপে রাখবে।

এবার আমরা জন্য গুগল মূলত কি দেখে আপনাকে / আপনার ওয়েবসাইটকে টপে দেখায়?

** কোন কোন ওয়েবসাইট / সোর্চ থেকে আপনার সাইটে ভিজিটর আসছে।
** প্রতিদিন কি পরিমাণে ভিজিটর আসছে?
** গুগল আপনার সাইটের ভিজিটরের গতিবিধি লক্ষ্য করে, তারা দেখে:
*– ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে কতক্ষণ অবস্থান করছে।
*– ভিজিটর কি এসেই চলে যাচ্ছে নাকি সাইটের একপেজ থেকে আরেকপেজে ভিজিট করছে।
*– ভিজিটর কি শুধুমাত্র একবার-ই আপনার সাইটে এসে চলে যায় নাকি ঘুরেফিরে নিয়মিত আপনার সাইটে আসছে।

মূলত এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করেই গুগল ঠিক করে আপনার সাইটকে সার্চের টপে নিয়ে আসবে নাকি পিছনে ফেলে রাখবে।

ক্যারিয়ার হিসাবে SEO কেমন হবে?

বর্তমানে বাংলাদেশে যারা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইনকাম করে থাকে তাদের বেশিরভাগ-ই এসইও এর মাধ্যমে আয় করে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা। আপনার যদি কম্পিউটার সম্পর্কে মোটামুটি সাধারন ধারনা থাকে, আপনি যদি ইংরেজীতে মোটামুটি পারদর্শী হয়ে থাকেন, ওয়েবসাইট ভিজিট করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তাহলে আপনিও অতি সহজেই এসইও এর কাজে পারদর্শী হতে পারেন। কোন প্রোগ্রামিং ভাষা / কোড জানার প্রয়োজন নেই তাই যেকেউ এই কাজ অতি সহজে রপ্ত করে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারেন, এবং এটি খুব সহজ কাজ।

এখন আমরা জানবো এসইও শিখে কিভাবে আয় করা যায়!

** মার্কেটপ্লেসে কাজের মাধ্যমে।
** ব্লগিংয়ের মাধ্যমে।
** অ্যাডসেন্স কিংবা অন্য কোন অ্যাড পাবলিশারের মাধ্যমে।
** অ্যাফিলিয়েশনের মাধ্যমে।
** কোন লোকাল অনলাইন বেস ব্যবসা চালু করে।
** ইকমার্স ব্যবসার মাধ্যমে।
** সিপিএ মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে।
** লোকাল কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে।
** কোন এসইও টিমের টীম মেম্বার হিসেবে কাজ করে।

কিভাবে শিখবেন এসইও?

আপনার যদি ইংরেজি পড়া এবং বুঝার স্কিল মোটামুটি ভালো লেবেলের হয়ে থাকে তবে আপনি গুগলকে ব্যবহার করে ভালো মানের কিছু ব্লগ থেকে এসইও’র বিষয়ে অনেক কিছু শিখতে পারেন। আর সবার জন্য তো গুগলের ইউটিউব আছেই, যেখান থেকে আপনি ভিডিও দেখে যেকোন কিছু শিখে নিতে পারেন, এছাড়াও বাংলাতে বিভিন্ন ব্লগে প্রচুর পরিমানে এসইও গাইডলাইন রয়েছে যেখান থেকে হেল্প নিতে পারেন।

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা অনলাইন থেকে কিছু শিখতে গিয়ে ধৈয্য হারিয়ে হাল ছেড়ে দেন। যারা এভাবে শিখতে অভ্যস্ত না তাদের জন্য রয়েছে ট্রেনিং সেন্টার। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে যেখানে আপনি মাত্র ৮০০০ টাকা থেকে ১৫০০০ টাকা খরচ করে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন আপনার কাঙ্খিত এসইও ট্রাইনিং। আর সাথে নিজের একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করে যা শিখেছেন, সেগুলোর বেশি বেশি প্র্যাকটিস করুন, তাহলেই আপনি আপনার কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবে বদলাতে পারবেন।