Linux Operating System

আসসালামু আলাইকুম, খলিফা নেটওয়ার্কে আপনাকে স্বাগতম!
কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন।

 

আজ আমরা আলাপ করবো লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে।

লিনাক্স হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম। অনলাইন দুনিয়ায় লিনাক্সের নাম সবাই শুনেছেন। লিনাক্স মনে করলেই আমাদের চোখের সামনে একটি পেঙ্গুইনের ছবি ভেসে উঠে। আবার একজন দাড়ি-গোপওয়ালা লোক বসে বসে কোডিংয়ের কাজ করছেন এমন ছবিও আমাদের চোখে ভাসে। 🙂

 

লিনাক্স (ইংরেজিতে: Linux) হচ্ছে একটি ফ্রি এবং ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম পরিবার, যে অপারেটিং সিস্টেমগুলো লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে সেগুলোকেই লিনাক্স বলা হয়। সাধারণত- ডেস্কটপ ও সার্ভার দুধরনের ব্যবহারের জন্যেই লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন বা লিনাক্স ডিস্ট্রো নামের একটি প্যাকেজড থাকে। একটি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনের ডিফাইনিং কম্পোনেন্ট হচ্ছে লিনাক্স কার্নেল, যেটি একটি অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল।
লিনুস টোরভাল্ডস সর্প্রবথম সেপ্টেম্বর ১৭, ১৯৯১ তারিখে এটি প্রকাশ করে। বেশিরভাগ লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন-ই লিনাক্স শব্দটি তাদের অপারেটিং সিস্টেমের নামের সাথে ব্যবহার করে এবং ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন গ্নু/লিনাক্স শব্দটি এই অপারেটিং সিস্টেম পরিবারকে বুঝাতেই ব্যবহার করা হয়।

 

লিনাক্স মূলত ইন্টেল এক্স-৮৬ আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে পিসির জন্য ডেভেলপ করা হয়েছে। কিন্তু, বর্তমানে এটি অন্য সকল অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে বেশি প্ল্যাটফর্মে পোর্ট করা হয়েছে / ব্যবহার করা হচ্ছে। স্মার্টফোন জগতে লিনাক্স কার্নেল ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম অ্যানড্রয়েডের আধিপত্যের কারণেই অন্যসব অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে লিনাক্সের সবচেয়ে বড় ইন্সটল বেস তৈরি হয়ে গেছে। লিনাক্স সার্ভার এবং অন্যান্য বড় আইরন সিস্টেম, যেমন মেইনফ্রেম কম্পিউটার, এবং সারা দুনিয়ার টপ ৫০০ সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে লিনাক্স। লিনাক্স মুলত ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকেই অন্য সব প্রতিযোগীদের (অপারেটিং সিস্টেম-কে) ধীরে ধীরে সরিয়ে দিচ্ছে)। বর্তমানে প্রায় ৫/৬% ডেস্কটপ কম্পিউটারে লিনাক্স ব্যবহার করা হয়। লিনাক্স কার্নেল ভিত্তিক ক্রোম অপারেটিং সিস্টেম চালিত ক্রোমবুক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস-এর) কে-১৩ শিক্ষার বাজারে গুরুত্বারোপ করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ ডলারের নিচের নোটবুক বিক্রির ২০% ক্রোমবুকই প্রতিনিধিত্ব করে। লিনাক্স এম্বেডেড সিস্টেম ডিভাইসগুলোতেও ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে টিভো এবং অনুরূপ ডিভিআর ডিভাইস / রাউটার / অটোমেশন কনট্রোল / টিভি / ভিডিও গেম কনসোল এবং স্মার্টওয়াচ-ও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে বেশিরভাগ স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটার / অ্যান্ড্রয়েড এবং অন্যান্য ডিভাইস লিনাক্স ডিস্ট্রোতে চলে।

 

লিনাক্সকে ওপেন সোর্স বা বিনামূল্য সফটওয়্যার ধারার একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যান্য স্বত্ত্ব সংরক্ষিত অপারেটিং সিস্টেম যেমন উইন্ডোজ এবং ম্যাক ওএস হতে লিনাক্স বিভিন্নভাবেই সম্পূর্ণ আলাদা। লিনাক্সের অন্তর্নিহিত সোর্স কোড যে কেউ বাধাহীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন, এর উন্নতিসাধন করতে পারেন, এমনকি পুনর্বিতরণও করতে পারেন, কারণ এটি ওপেন সোর্স লাইসেন্স দিয়ে পরিচালিত।

 

অতি সঠিকভাবে লিনাক্স বলতে লিনাক্স কার্নেলকেই বোঝায়। তবে যে সব ইউনিক্স সদৃশ অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে এবং গ্নু ও অন্যান্য প্রকল্পের কোড সংগ্রহ লাইব্রেরি ও হাতিয়ার বা টুলস ওই কার্নেলের সাথে যুক্ত করে বানানো হয়েছে মুলত সে সকল অপারেটিং সিস্টেমকে লিনাক্স হিসেবেই বর্ণনা করা হয়।
আরও ব্যাপক অর্থে লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন বলতে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ও এর সাথে সরবরাহকৃত বিপুল পরিমাণের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর সমষ্টিকে বোঝায়। লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলো সহজেই কম্পিউটারে সংস্থাপন বা ইন্সটল ও হালনাগাদ বাআপডেট করা যায়।

 

কিছু ডেস্কটপ যেমন নোম এবং এলএক্সডিই সাধারণত কেবল লিনাক্সের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হলেও এগুলো অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমেও ব্যবহৃত হয়।

প্রাথমিকভাবে লিনাক্স তৈরির প্রথমদিকে কেবল কিছু উৎসাহী ব্যক্তিই মূলত লিনাক্স ব্যবহার ও এর উন্নতিসাধন করতেন। এখন বড় বড় কর্পোরেশন যেমন ডেল, আইবিএম, সান মাইক্রোসিস্টেম্‌স, হিউলেট-প্যাকার্ড, নভেল, গুগোল ইত্যাদি সার্ভারে ব্যবহারের জন্যে লিনাক্সকে বেছে নিয়েছে। বর্তমান ডেস্কটপ বাজারেও লিনাক্সের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। লিনাক্স বিশেষজ্ঞ ও লিনাক্স সমর্থকদের মতে লিনাক্সের এই চাহিদা / পছন্দের পেছনে কারণ হচ্ছে লিনাক্স একটি ওপেনসোর্স, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং এটি কোনো বিক্রেতার কাছ থেকে কিনতে হয় না, অর্থাৎ এটি বিক্রেতা অধীন নয় বা কোন লাইসেন্স লাগেনা (ম্যাক / উইন্ডোসের মত টাকা দিয়ে লাইসেন্স কিনা লাগেনা)।

লিনাক্স প্রাথমিকভাবে ইন্টেল-৩৮৬ মাইক্রোপ্রসেসর এর জন্য তৈরি করা হলেও এখন এটি বর্তমানের সব জনপ্রিয় এমনকি অনেক পুরনো ও বিরল কম্পিউটার আর্কিটেকচার এর অধীনেও কাজ করে (ইন্সটল করা যায়)। গ্রথিত ব্যবস্থা / এম্বেডেড সিস্টেম, যেমন মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ডার, ইত্যাদি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার, এমনকি সুপারকম্পিউটার সকল ক্ষেত্রেই এখন লিনাক্স ব্যবহৃত হয়।

 

লিনাক্স এর ইতিহাসঃ
১৯৮৩ সালে রিচার্ড স্টলম্যান গ্নু প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠা করেন। গ্নু প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পুরোপুরি বিনামূল্যের সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিক্স সদৃশ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা। ৯০ এর দশকের শুরুর দিকেই গ্নু এই অপারেটিং সিস্টেমের প্রায় সমস্ত দরকারি উপাদানগুলো বানাতে এবং সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। উপাদানগুলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন কোড লাইব্রেরি, কম্পাইলার, টেক্সট এডিটর, একটি ইউনিক্স সদৃশ শেল, এবং আরও অন্যান্য সফটওয়্যার। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তখনও বাকি ছিল, আর তা হচ্ছে কার্নেল, যা অপারেটিং সিস্টেমটির উপাদান বা ভিত্তি।

১৯৯০ সালে গ্নু প্রকল্প তাদের নিজস্ব কার্নেল গ্নু হার্ড এর ওপর কাজ শুরু করে। হার্ড এর প্রাথমিক পরিকল্পক টমাস বুশনেলের কথানুযায়ী গ্নুর প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল বিএসডি ৪.৪লাইট কার্নেলটি তাদের কাজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা। পেছনের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেছেন, “এখন আমি নিশ্চিত যে এ পরিকল্পনাটি দারুণভাবে সফল হবে, আর বিশ্ব আমাদের খুব ভালোভাবে গ্রহন করবে” কিন্তু বার্কলির প্রোগ্রামারদের মধ্যে সহযোগিতার ঘাটতি দেখে স্টলম্যান হার্ড প্রকল্পের জন্য মাখ মাইক্রোকার্নেল ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে দেখা যায় এটির ব্যবহার আশাতীতভাবে কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে, ফলে হার্ডের উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে এগোতে থাকে।

প্রায় কাছাকাছি সময়, ১৯৯১ সালে, লিনুস টোরভাল্ডস নামের এক ফিনীয় ছাত্র হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত অবস্থায় শখের বশে আরেকটি কার্নেলের ওপর কাজ শুরু করেন। এই কার্নেলটিই মুলতভাবে লিনাক্স কার্নেলে রূপ নেয়। লিনুস প্রথমদিকে মিনিক্স নামের একটি সরলীকৃত ইউনিক্স সদৃশ অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করেন। মিনিক্সের রচয়িতা ছিলেন এন্ড্রু টানেনবম, এক প্রখ্যাত অপারেটিং সিস্টেম ডিজাইনার ও প্রশিক্ষক। তবে টানেনবম তাঁর মিনিক্স সিস্টেমের ওপর সরাসরি কাজ করে উন্নতিসাধনের অনুমতি দিতেন না। ফলে লিনুসকে মিনিক্সের সমতুল্য একটি সিস্টেম বানাতে হয়। লিনুস প্রথমে আইএ-৩২ এসেম্বলার ও সি কোডের সাহায্যে একটি টার্মিনাল এমুলেটর তৈরি করেন এবং এটিকে কম্পাইল করে বাইনারি আকারে রূপান্তরিত করেন, যাতে এটি যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের বাইরে ফ্লপি ডিস্ক থেকে বুট করে চালানো যায়। টার্মিনাল এমুলেটরটিতে একসাথে দুইটি থ্রেড চলত। একটি থ্রেড ছিল সিরিয়াল পোর্ট থেকে ক্যারেক্টার পড়ার জন্য আরেকটি ছিল পোর্টে ক্যারেক্টার পাঠানোর জন্য। যখন লিনুসের ডিস্ক থেকে ফাইল পড়া ও লেখার প্রয়োজন পড়ল তখন তিনি এই এমুলেটরটির সাথে একটি সম্পূর্ণ ফাইলসিস্টেম হ্যান্ডলার যোগ / স্থাপন করেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি এটিকে একটি সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম কার্নেলে রূপ দিয়ে দেন, যাতে এটিকে পজিক্স অনুগামী সিস্টেমসমূহের ভিত্তিরূপে ব্যবহার করা যায়। লিনাক্স কার্নেলের প্রথম সংস্করণ ০.০.১ ইন্টারনেটে প্রকাশ পায় ১৯৯১ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর। কিছুদিন পরেই ১৯৯১ এর অক্টোবরে দ্বিতীয় সংস্করণটি বের হয়। তখন সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার ডেভেলপার লিনাক্সের এই প্রজেক্টে অংশ নিয়েছেন। এরিক রেমন্ড এর লেখা প্রবন্ধ The Cathedral and the Bazaar-এ লিনাক্স কার্নেলের ও অন্যান্য সমজাতীয় সফটওয়্যারের উন্নয়নপ্রক্রিয়ার মডেল সম্পর্কে আলচনা করা হয়েছে।

লিনাক্সের ০.০১ সংস্করণে লিনুস যথেষ্টসংখ্যক পজিক্স সিস্টেম বাস্তবায়ন করেন যাতে লিনাক্স গ্নুর ব্যাশ শেল চালাতে পারে। এই বুটস্ট্র্যাপিং প্রক্রিয়াটির বাস্তবায়ন লিনাক্সের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। প্রথমদিকে লিনাক্স সংস্থাপন বা ইনস্টল, গঠন-প্রকৃতি নির্ধারণ বা কনফিগার ও সংকলন বা compile করার জন্য মিনিক্স চালিত কম্পিউটারের প্রয়োজন হত। এছাড়া লিনাক্সের প্রাথমিক সংস্করণগুলোকে হার্ড ডিস্ক থেকে বুট করানোর জন্য অপর একটি অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন হত। তবে শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হিসেবে তৈরি করা হয় কিছু আত্মনির্ভরশীল বুটলোডার। এই বুটলোডারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম লিলো। এরপর লিনাক্স উপযোগিতার মিনিক্স খুব দ্রুত ছাড়িয়ে যায়। লিনুস ও লিনাক্স কার্নেলের অন্যান্য প্রাথমিক ডেভেলপারেরা কার্নেলের পরিবর্তন সাধন করেন যাতে সেটি গ্নুর বিভিন্ন উপাদান ও ব্যবহারকারীদের জন্য লেখা প্রোগ্রামগুলোর সাথে কাজ করতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে লিনাক্স গঠন ও উপযোগিতার হিসেবে একটি সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেমে রূপ নিতে থাকে।

বর্তমানে লিনাক্স কার্নেলের উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন লিনুস টোরভাল্ডস নিজেই, তবে কার্নেলের সহযোগী অন্যান্য ব্যবস্থাগুলো যেমন গ্নু উপাদানগুলো আলাদাভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর লিনাক্স বিতরণকারী বিক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান কাজ হচ্ছে এই সবগুলো উপাদান একত্র করা এবং এর সাথে গ্রাফিকাল ইন্টারফেস এক্স-উইন্ডো সিস্টেম ভিত্তিক নোম বা কেডিং ও এপ্লিকেশন সফটওয়্যার যোগ করে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালক ব্যবস্থা তৈরি করা।

লিনাক্সের ম্যাসকট এবং লোগো হচ্ছে টাক্স নামের পেঙ্গুইন। ১৯৯৬ সালে ল্যারি ইউয়িং এর আঁকা একটি ছবি থেকে টাক্স পেঙ্গুইন আঁকার অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। টাক্স ছাড়াও ওএস ট্যান ও আরও কিছু লিনাক্স প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্র রয়েছে, তবে এগুলো খুব প্রচলিত নয়।

“লিনাক্স” নামটি কিন্ত লিনুস টোরভাল্ডস দেওয়া নাম নয়। লিনাক্সের নামকরণের কৃতিত্ব আরি লেমকের। লেমকে হেলসিংকি ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজিতে ftp.funet.fi নামক একটি এফটিপি সার্ভারের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সার্ভারটি ছিল ফিনীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা নেটওয়ার্ক এর একটি অংশ, আর এই নেটওয়ার্ক এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ছিল লিনুসের ইউনিভার্সিটি অফ হেলসিংকি। লিনুস যখন তার অপারেটিং সিস্টেম প্রকল্পটি এই সার্ভারটিতে রক্ষা করার জন্য লেমকে কে দেন, লেমকে তখন তা একটি ডিরেক্টরিতে রাখেন ও ডিরেক্টরিটির নাম দেন “লিনাক্স”, যার অর্থাৎ “লিনুসের মিনিক্স” কথাটির সংক্ষিপ্ত রূপ। লিনুস অবশ্য নিজে প্রকল্পটির নাম “ফ্রিক্স” (freax) রাখতে চাচ্ছিলেন যা ছিল “ফ্রি” / বিনামূল্য ও ইউনিক্সের শেষ অক্ষর “এক্স” এর সম্মিলিত রূপ। শেষ পর্যন্ত লেমকের দেয়া লিনাক্স নামটিই রয়ে যায়।