Online Earning Alerts

আসসালামু আলাইকুম, খলিফা নেটওয়ার্কে আপনাকে স্বাগতম!
কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন।

 

আজ আমরা আলাপ করবো কিছু অনলাইন প্রতারণা প্রসঙ্গে। আমরা জানি ইন্টারনেট তথা অনলাইন থেকে আয়ের বহু পথ রয়েছে এবং মানুষ অনলাইন থেকে অনেক অনেক পদ্ধতিতে আয়ও করছে। বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ তরুণী অনলাইন / ইন্টারনেট থেকে আয় করছে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা। বর্তমানে অনলাইন থেকে আয় করাকে অনেকেই অর্থনৈতিক উন্নতির চাবিকাঠি উল্লেখ করছেন।

আমাদের সাইটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যারা ব্যক্তিগতভাবে কাজ করতে চান, অনলাইন থেকে আয়ের সঠিক গাইডলাইন খুঁজছেন তাদের নিয়ে।
অন্য যেকোনো কাজের পাশাপাশি অল্প কিছু সময় দিয়েই ইন্টারনেট থেকে আয়ের সঠিক রাস্তা তৈরী করা, অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছেন সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া ইত্যাদি।

কিন্তু অনলাইন আয়ের সময় আপনি অনেক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন, তাই সাবধান, চলুন কিছু বিষয় জেনে নেই।

 

ঠকবাজি / প্রতারক থেকে সাবধান থাকুনঃ ইন্টারনেটে ঠকবাজের / প্রতারকের কোন অভাব নেই। অনলাইনে নিজের পরিচয় না জানিয়ে বা গোপন করে অন্যের কাছে টাকা নেয়া যায়, এজন্য কেউ আপনাকে ঠকালেও আপনার খুব বেশি করার থাকে না, মানে আপনি তার কিছুই করতে পারবেন না। তাই আগে থেকেই সাবধান থাকাই ভাল।

ইন্টারনেটে ঠকবাজি / প্রতারণা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
ধরুন পিটিসি সাইট, কোন প্রতারক আপনাকে বলতে পারে এই সাইটে প্রতিবার ক্লিক করে ২ থেকে ৫ ডলার পাবেন, তারমানে আপনি মাসে অনায়াসে হাজার ডলার ইনকাম করতে পারবেন। 🙂
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পিটিসি সাইটের মালিকই চলে সেই সাইটের বিজ্ঞাপনের টাকায়। আর কেউ পিটিসি বিজ্ঞাপনের জন্য ২/৫ দলের খরচ করেনা। তাহলে আপনি কিভাবে পাবেন?
কোন পিটিসি সাইটে যদি ক্লিক প্রতি ০.০২ সেন্টের বেশি দেয়ার কথা বলে থাকে, তাহলে ধরে নেন সেখানে ঘাপলা আছে, আর বর্তমান পিটিসি সাইট নেই বললেই চলে, কারণ ইউএস গভর্নমেন্ট এই ধরণের সাইটের লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তাই কখনোই কারোর কথায় কোন পিটিসি সাইটে কাজ করবেন না।

আপনাকে কেউ বললো, আপনি এই সাইটে অল্প কিছু টাকা দিয়ে সদস্য হলে খুব সহজে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করবেন। 🙂
এটা হচ্ছে আরেক ধরনের প্রতারণা। ইন্টারনেট থেকে আয় করার জন্য কোন টাকা দিয়ে কোন সাইটের সদস্য হতে হয় না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে মেম্বার ফির টাকা দিয়ে সদস্য হলে সহজে ডাটা এন্টির মত কিছু কিছু কাজ পাওয়া যায় একথা ঠিক, তবুও আপনি নিশ্চিত না হয়ে কোনখানে টাকা ইনভেস্ট না করে সদস্য না হওয়াই ভালো হবে।
বরং প্রথমে আপনি খুজুন কোথায় বিনা টাকায় কাজ পাওয়া যায়। কম আয় হলেও সেখানেই কাজ করুন।

আপনার কাছে ১টি মেইল আসলো, সেখানে লেখা রয়েছে যে, আপনি অমুক কোম্পানির / অমুক দেশের ১টি বিশেষ লটারীতে কয়েক লক্ষ ডলার বা পাউন্ড পেয়েছেন! 😛
এখন সেই ডলার বা পাউন্ড নেয়ার জন্য আপনাকে যোগাযোগ করতে বলবে,
কি এই কথা শুনে মনে মনে হাসলেন? 😉 এমন ইমেইল হয়তো অনেকেই অনেক বার পেয়েছেন!
ইন্টারনেটে এটি একটি সাধারন প্রতারণা ব্যবসা। আপনাকে বলা হবে আপনার লটারিতে প্রাপ্ত টাকা আপনাকে পাঠানোর জন্য খরচ বাবদ তাদের কিছু টাকা পাঠাতে হবে। আপনি হয়তো পাঠিয়েও দিবেন, কিন্তু যা দেবেন সেটাই তাদের লাভ আর আপনার লস। তাই কখনোই এধরনের মেইলের কোন উত্তর দেবেন না। কারণ আপনি একটু ভেবে দেখুন, আপনি কি কোন লটারীতে অংশ নিয়েছিলেন? লটারিতে যদি অংশ গ্রহণ না করেন তাহলে আপনি কিভাবে বিজয়ী হবেন? আর হ্যা এই ধরণের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে যেখানে সেখানে নিজের ইমেইল এড্রেস দেবেন না।

 

অনলাইনে অর্থ লেনদেনে সর্বদা সাবধান থাকুনঃ আপনি অনলাইনে যেভাবেই অর্থ আয় করুন না কেন, আপনি কখনোই ক্যাশ টাকা পাবেন না। কারণ অনলাইনে ক্যাশ টাকা দেয়ার কোনো উপায় নাই। আপনার টাকা ডাইরেক্ট আপনার ব্যাংক একাউন্টে / ব্যাংক চেকের মাদ্ধমে পেতে পারেন।

আপনি যখন কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যাবেন, তখন আগেই খোজ নিয়ে নিবেন তারা কিভাবে টাকা দেয়। তারা যেই যেই মাধ্যমে টাকা প্রদান করে আপনার দেশ থেকে সেই মাধ্যম গুলো ব্যবহারের সুযোগ আছে কিনা। অনলাইনে প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান পেপাল ব্যবহার করে, কিন্তু বহু দেশ রয়েছে যেখান থেকে আপনি পেপাল ব্যবহার করতে পারবেন না। যেমন ধরুন আপনি বাংলাদেশ থেকেই পেপাল ব্যবহার করতে পারেন না, তাহলে আপনার পেমেন্ট কিভাবে নিবেন? তাই আপনার ব্যবহারের উপোযোগি কোন উত্তোলন ব্যবস্থা যদি ওই সাইটে না থাকে তাহলে সেখানে কাজ করবেন না, কিন্তু আপনি চাইলে ফ্রিতে করতে পারেন যদি আপনার টাকা পাওয়ার ইচ্ছে না থাকে। 🙂 🙂

আমাদের দেশে এবং সারা পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই নেটেলার, স্ক্রিল, পায়জা, পেয়নির একাউন্ট ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সর্বদা এগুলি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকবেন, কখনোই আপনার একাউন্টে বেশি টাকা জমা রাখবেন না। কারণ আপনার একাউন্টের নাম / নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড যে কোন সময় চুরি হয়ে যেতে পারে, এবং সমস্ত টাকা গায়েব হয়ে যেতে পারে।

অনলাইনে কখনোই ভিন্ন ভিন্ন সাইটে একই ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। খুব সহজ সরল পাসওয়ার্ড (যেমন কারো নাম / নাম্বার) ব্যবহার করবেন না। আর অবশ্যই নিয়মিত ভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করবেন।

 

ইন্টারনেট ব্যবহারে সবসময় সাবধান ও সতর্ক থাকুনঃ ইন্টারনেটে / অনলাইনে আয়ের খোঁজে আপনাকে হয়তো বিভিন্ন ধরনের সাইটে যেতে হয়। যেকোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারের সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই সাইটটি কি আপনার কোন উপকার করছে? নাকি অপকার করছে?
অনলাইনে অনেক সাইট রয়েছে যেই সাইটে ভিজিট করলে আপনার কম্পিউটারে স্পাইঅয়্যার থেকে শুরু করে নানা ধরনের ভাইরাস / ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনষ্টল হয়ে যেতে পারে, যা দিয়ে আপনার কম্পিউটারের তথ্য (পাসওয়ার্ড) তাদের কাছে চলে যেতে পারে।
সাধারনত যেকোনো হ্যাকিং সাইট, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি সাইটে এধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তাই এধরনের সাইট থেকে দুরে থাকতে চেষ্টা করুন।

ইন্টারনেটে / অনলাইনে আয়ের সাথে অনেক ধর্য্য এবং সময়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই ধর্য্য আর সময় যত সময় যত বেশি দিবেন আয় তত বেশি হবার সম্ভাবনা থাকবে, বেশি বেশি সময় দিন সে সকল সাইটে যেখান থেকে আপনি আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারবেন, পরামর্শ পাবেন, আপনার উপকার হবে এমন সাইটগুলির সদস্য হোন, তাদের নিউজলেটারে রেজিস্ট্রেশান করুন। তাহলে তাদের নতুন পোস্ট আপনি পেয়ে যাবেন।

ইন্টারনেটে / অনলাইনে আয়ের জন্য অবশ্যই আপনাকে ধৈয্যের পরীক্ষা দিতে হবে। এতে আপনার সাফল্য নিশ্চিত হবে।
আর অনলাইনে অভিজ্ঞতা যত বাড়বে, দক্ষতা যত বাড়বে সাথে আপনার আয়ও তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকবে।
সেম একই কথা যেকোনো ব্লগ / ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও।
যত দিন যাবে ব্লগের / ওয়েবসাইটের পরিচিতিও তত বাড়বে, সাথে সাথে বাড়বে আয়।