Windows Operating System

আসসালামু আলাইকুম, খলিফা নেটওয়ার্কে আপনাকে স্বাগতম!
কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন।

 

আজ আমরা আলাপ করবো মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে।

কম্পিউটার ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১৯৮৫ সাল থেকে তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
মাইক্রোসফট সব সময়ই চেষ্টা করে আসছে, তারা তাদের অপারেটিং সিস্টেমে নতুন নতুন সংস্করণ ও ফিচার যোগ করার মাধ্যমে Microsoft Windows -কে আরও উন্নত এবং আরও জনপ্রিয় করছে।
সূচনার প্রথম দিকে Windows এর সংস্করণ এবং সর্বশেষ Windows এর সংস্করণ দেখলেই বোঝা যায় তারা তাদের অপারেটিং সিস্টেমকে কতটা উন্নত এবং আকর্ষণীও করতে নিরলস কাজ করেছে।
Microsoft Windows -এর সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে দেয়া হলোঃ

Microsoft Windows এর ইতিহাসঃ
Windows মূলত মাইক্রোসফটের একটি ফাল্গশিপ অপারেটিং সিস্টেম যা মাইক্রোসফট কর্পোরেশন দ্বারা তৈরি একটি গ্রাফিকাল অপারেটিং সিস্টেম। গ্রাফিকাল অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রেক্ষিতেই ১৯৮৫ সালের নভেম্বর মাসে মাইক্রোসফট তাদের ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম (DOS) এর বাড়তি সুবিধা হিসেবে Windows -কে বাজারে আনে। এবং তারপর পর্যায়ক্রমে Windows -এর অনেকগুলি সংস্করণ প্রকাশ করে।

ms windows

Microsoft Windows -এর ডেস্কটপ সংস্করণ সমূহঃ

* Windows 1.0 (১৯৮৫ – ২০০১)

১৯৮৫ সালের ২০ নভেম্বর মাইক্রোসফট সর্বপ্রথম তাদের উইন্ডোজ ১.০ বাজারে ছাড়ে। উইন্ডোজ ১.০ ছিল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এর সর্বপ্রথম সংস্করণ। এটি কম্পিউটার ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক এবং মাইক্রোসফটের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল।
প্রায় ১৬ বছর পর ২০০১ সালে মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ ১.০ সংস্করণ বন্ধ করে দেয়।

* Windows 2.0 (১৯৮৭ – ২০০১)

১৯৮৭ সালের ৯ ডিসেম্বর মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ এর ২য় সংস্করণ উইন্ডোজ ২.০ বাজারে ছাড়ে। এটি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ এর পরবর্তী সংস্করণ। বৈশিষ্ট্যগত ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে এটি মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ এর থেকে অনেক উন্নত ছিল।
প্রায় ১৪ বছর পর ২০০১ সালে মাইক্রোসফট তাদের উইন্ডোজ ২.০ সংস্করণও বন্ধ করে দেয়।

* Windows 3.0 (১৯৯০ – ২০০১)

১৯৯০ সালের ২২ মে উইন্ডোজ ৩.০ সংস্করণটি বাজারে আসে। উইন্ডোজ  ১.০ ও ২.০ এর থেকে উইন্ডোজ ৩.০ মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এর সবচেয়ে সফল সংস্করণ হয়ে উঠে। এই সংস্করণ  টি অ্যাপেল-এর ম্যাকিনটোশ এবং  কমোডর আমিগিয়ার – এর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল।
এই সংস্করণটিও উইন্ডোজ  ১.০ ও ২.০ সংস্করণের মত ২০০১ সালের ২১ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে যায়।

* Windows NT 3.1 (১৯৯২ – ২০০১)

উইন্ডোজ ৩.১ মূলত ১৬ বিটের একটি ধারাবাহিক অপারেটিং সিস্টেম যা ব্যক্তি কম্পিউটারের জন্য তৈরি করা হয়। এটি কিন্তু মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৩.০ -এর পরবর্তী সংস্করণ। উইন্ডোজ ৩.১ প্রথম বাজারে আসে ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে। এই সংস্করণ টি উইন্ডোজ ৯৫ আসার আগ পর্যন্ত (১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত) বিভিন্ন সংস্করণে মুক্তি পেয়েছিল।
উইন্ডোজ ৩.১ ১৯৯২ সালের ৬ এপ্রিল বাজারে আসে এবং অফিশিয়াল সাপোর্ট প্রদান করা হয় ৩১ ডিসেম্বর, ২০০১ সাল পর্যন্ত। আর উইন্ডোজ ৩.১ -এর সার্ভারের সহায়তা প্রদান করা হয় ১ নভেম্বর, ২008 পর্যন্ত।

* Windows 95 (১৯৯৫ – ২০০১)

উইন্ডোজ ৯৫ একটি গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস সংবলিত মেইন অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে কাজ করে।  এটি প্রথম বাজারে আসে ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট। মাইক্রোসফট এর আগের সকল অপারেটিং সিস্টেম থেকে এই সংস্করণটি অনেক ব্যতিক্রমী এবং বাজারে আসার পর থেকি এটি অনেক বেশী জনপ্রিয়তা লাভ করে। অপারেটিং সিস্টেমটি নির্মাণের সময় এই সংস্করণটির একটি নাম দেওয়া হয় যা উইন্ডোজ ৪.০ বা “শিকাগো” নামে পরিচিত হয়।
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৯৫ -এ মূলত মাইক্রোসফটের পূর্ববর্তী MS DOS এবং তাদের উইন্ডোজ -কে একীভূত করে করা হয় এবং DOS এর একটি উন্নত সংস্করণ নির্মাণ করা হয় যার নাম রাখা হয় MS DOS 7.0, জনপ্রিয় উইন্ডোজ ৩.১ এর থেকে উইন্ডোজ ৯৫ -এর সিস্টেমের অগ্রগতি দেখার মত। উইন্ডোজ ৯৫ বের হবার আগের উইন্ডোজ ৩.১ কে আলাদাভাবে কিনে DOS দ্বারা ব্যবহার (ইন্সটল) করতে হতো। কিন্তু উইন্ডোজ ৯৫ আসার পর থেকে অপারেটিং সিস্টেমে DOS ব্যবহার করার জন্য আলাদা ভাবে কিনতে হয়নি।

* Windows 98 (১৯৯৮ – ২০০৬)

১৯৯৮ সালের ১৫ মে উইন্ডোজ ৯৮ বাজারে আসে যার কোড নেম “মেমফিস”। এটিও মাইক্রোসফটের একটি গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ ৯৫ -এর পরবর্তী সংস্করণই হচ্ছে উইন্ডোজ ৯৮, এটি ১৬ বিট এবং ৩২ বিট এর হাইব্রিড সংস্করণ এবং MS DOS ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। এটি আবার উইন্ডোজ ৯ এক্স সিরিজের প্রথম সংস্করণ। উইন্ডোজ ৯৮ এর ২য় সংস্করণ করা হয় ৫ মে, ১৯৯৯ সালে এবং পরবর্তীতে আবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে উইন্ডোজ মিলিনিয়া দ্বারা সংস্করণ করা হয়।
Microsoft Windows এর উইন্ডোজ ৯৮ সংস্করণের সমাপ্তি ঘটছে ১১ জুলাই ২০০৬ এ।

* Windows ME (১৯৯৮ – ২০০৬)

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০০ সালে উইন্ডোজ মিলেনিয়াম বা Windows ME বাজারে ছাড়া হয়। এটি ছিলো উইন্ডোজ ৯ এক্স সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ। উইন্ডোজ ৯৮ এর ২য় সেন্সর উইন্ডোজ ME দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এটি মূলত ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য এর সাথে মাইক্রোসফট ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৫.৫, উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার, আউটলুক এক্সপ্রেস এবং মুভি মেকার সফটওয়্যার যুক্ত করে। Windows ME -তে গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস কে অনেক উন্নত করা হয়।
এই সংস্করণে মাইক্রোসফট .NET-2 এবং Office XP সাপোর্ট করত।

* Windows 2000 (২০০০ – ২০১০)

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০০ সালে Microsoft Windows ২০০০ মুক্তি পায়। একটিও একটি অপারেটিং সিস্টেম যা ব্যক্তিগত কম্পিউটার এবং সার্ভারের কাজে ব্যবহার করার উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়। ২০০০ সালে এটির প্রাতিষ্ঠানিক বাজারজাত করা হয়। এটি মূলত উইন্ডোজ NT 4.0 -এর সফল ভার্সন এবং এটি উইন্ডোজ NT -এর সর্বশেষ সংস্করণ। পরবর্তীতে এই সংস্করণ উন্নয়ন করা হলে এটি উইন্ডোজ NT 5.0 নামেই পরিচিত হয়।

* Windows XP (২০০১ – ২০১০)

মাইক্রোসফটের সকল অপারেটিং সিস্টেম গুলোর মধ্যে কিন্তু Microsoft Windows XP সবচেয়ে এগিয়ে। এটি ২০০১ সালে প্রথম বাজারে আসে। লিনাক্সের মত মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ উন্মুক্ত (ফ্রি) না হলেও সহজ এবং জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম কিন্তু উইন্ডোজ এক্সপি। বাংলাদেশে এখনও অনেক অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা Windows XP ব্যবহার করেন।

* Windows Vista (২০০৬ – ২০১২)

Windows Vista পারসোনাল কম্পিউটারে বাবহারের জন্য নির্মিত একটি গ্রাফিকাল অপারেটিং সিস্টেম। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট পিসি-তে Windows Vista ব্যবহার করা হয়। ২০০৫ সালের ২২ জুলাই -তে ভিস্তার কাজ শুরু হয় তখন এর নাম দেয়া হয় ভিস্তা “লংহর্ন”। ২০০৬ সালের 8 নভেম্বর ভিস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং তা বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারিতে Windows Vista -কে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করা হয় এবং সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। Windows Vista কিন্তু উইন্ডোজ XP -এর পাঁচ বছর পর বাজারে আসে। মাইক্রোসফট তাদের Windows Vista তৈরী করতেই মাইক্রোসফট সর্বাধিক সময় ব্যয় করে।

* Windows 7 (২০০৯ – ২০১৫)

Windows 7 হচ্ছে Microsoft এর একটি অন্যতম অপারেটিং সিস্টেম। ২০০৯ সালে এটিকে বাজারে ছাড়া হয়। এর 32bit এবং 64bit দুই ধরনের সংস্করণ আছে। এটি জুলাই ২২, ২০০৯ প্রথম প্রকাশিত হলেও অক্টোবর ২২, ২০০৯ এর দিকে সারা বিশ্বে ছাড়া হয়। শুরুতে মাইক্রোসফট এই ভার্সনটির নাম দেয় “ভিয়েনা” এবং পরবর্তী তে এটিকে “ব্ল্যাকবাম” নামে আপডেট করে। এটি মূলত Windows Vista -এর আপডেট সংস্করণ।

* Windows 8 (২০১২ – ২০১৮)

Windows 8 মূলত Windows 7 কে অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। Windows 8 -এ Windows 7 সংস্করণ থেকে অনেক পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে এটিতে Intel এবং AMD এর জন্য 32bit মাইক্রো প্রসেসর সাপোর্ট ছাড়াও ARM মাইক্রো প্রসেসর সাপোর্ট Add করা হয়েছে। Microsoft তাদের Windows 8 -এ প্রথম টাচ স্ক্রিন ইনপুট ব্যবহার করে এবং স্টার্ট মেনু প্রতিস্থাপন করে নতুন আরেকটি ইন্টারফেস যুক্ত করে।

* Windows 8.1 (২০১৩ – ২০১৮)

Windows 8.1 হচ্ছে মাইক্রোসফট Windows 8 এর পরবর্তী সংস্করণ, যা Windows 7 এবং 8 -এর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাজারে আসে ২০১৩ সালে।

* Windows 10 (২০১৪-১৫)

Microsoft Windows 10 হচ্ছে Microsoft অপারেটিং সিস্টেম এর সর্বশেষ সংস্করণ। এটিকে প্রকাশ করা হয় ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এবং ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই সকল দেশে মুক্তি পায়।

মাইক্রোসফট তাদের ২০১৪ সালের বার্ষিক বিল্ড কনফারেন্স সফটওয়্যার এবং ওয়েব ডেভেলপারদের অনুষ্ঠান করে যেটির মাধ্যমে তাদের Windows 10 এর যাত্রা শুরু। এই অনুষ্ঠানের মুল লক্ষ্য ছিলো ব্যবহারকারীর নিজস্ব প্রয়োজনীয় ফিচারগুলির যথাযথ ব্যবস্থা করা, যা প্রথমে Windows 8 এর মাধ্যমে পরিচিত হয়। বর্তমানে এটির সাথে আরও নতুন নতুন কিছু ফিচার সংযুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপের মতো টাচস্ক্রীন ডিভাইসগুলিতে Windows 10 সহজেই ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও এতে রয়েছে Windows স্টোর যা থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়।

মাইক্রোসফট তাদের এক বিবৃতিতে বলে, Windows 10 -এর পরে থেকে মাইক্রোসফট আর কোন নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করবে না। নিত্য নতুন আপগ্রেড প্রদান করে Windows 10 -কে ই উন্নত করবে।